হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা, শহীদ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিসের ব্যাখ্যায় মানুষের সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যটি পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: سید القوم خادمهم অর্থাৎ, ‘কোনো জনগোষ্ঠীর নেতা হলেন তাদের সেবক।’ অথবা এর অর্থ হতে পারে, যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি সেবা করেন, তিনিই নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকতর যোগ্য।
অতএব, কোনো জনগোষ্ঠীর নেতা কে—তা জানতে হলে তার বংশ, বংশমর্যাদা, নাম কিংবা পদবির দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই; বরং দেখতে হবে, কে সবচেয়ে বেশি সেবা করছে। যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি সেবা করেন, তিনিই সেই জনগোষ্ঠীর নেতা।
অথবা এর আরেকটি অর্থ ও সম্ভাবনা হলো—কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কারণে কোনো জনগোষ্ঠী, জাতি কিংবা সমাজের নেতৃত্ব ও দায়িত্ব লাভ করেন, তাহলে সেই জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর দায়িত্ব হলো তাদের সেবক হওয়া। এ কারণেই কখনো কখনো বলা হয়, ‘কর্মকর্তারা জনগণের সেবক।’ কেউ কেউ আপত্তি করেন, ‘স্যার, “নওকর” শব্দটি ব্যবহার করবেন না।’ কিন্তু এই শব্দ তো মহানবী (সা.)-এর ব্যবহৃত শব্দেরই অর্থ; ‘খাদেম’ অর্থাৎ সেবক।
এই বক্তব্য একদিকে যেমন মানুষের সেবার গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরে এবং স্পষ্ট করে যে, ইসলামের পবিত্র শরিয়ত ও মহানবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে মানুষের সেবা করা, মানুষের জন্য কাজ করা, তাদের জন্য পরিশ্রম করা এবং তাদের উপকার করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ; অন্যদিকে এটি নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব সম্পর্কে আমাদের মনে গড়ে ওঠা একটি ভুল ধারণাকেও ভেঙে দেয়।
আমরা যখন কোনো দপ্তর বা কোনো সংগঠনের প্রধান হই, তখন আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মনে এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়; যেন আমাদের জন্য একটি বিশেষ নিরাপত্তাবলয় থাকা উচিত এবং আমাদের জন্য সাধারণের চেয়ে অতিরিক্ত মর্যাদা ও বিশেষ অধিকার থাকা আবশ্যক।
না; ইসলামী শিক্ষা হলো—আপনি যদি কোনো কারণেই কোনো জনগোষ্ঠী, জাতি কিংবা দেশের নেতৃত্ব—যে পর্যায়েই হোক না কেন—গ্রহণ করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ওপর একটি দায়িত্ব বর্তায়। আর সেই দায়িত্ব হলো তাদের সেবা করা।
দেখুন, ইসলামের এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বিশ্বের প্রচলিত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বস্তুবাদী সংস্কৃতিতে নেতৃত্ব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কতটা পার্থক্য! প্রচলিত সেই ধারণায় কেউ যখন কোনো দপ্তরের প্রধানের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং নেতৃত্বের আসনে বসেন, তখন যেন তাঁর চারপাশে পদমর্যাদা ও বিশেষ অধিকারের একটি প্রাচীর গড়ে ওঠে; এমনকি তাঁর প্রতি সামান্য আপত্তি বা সমালোচনা করারও যেন কারও অধিকার থাকে না।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এমন নয়। আপনি নেতা—ঠিক আছে; কিন্তু এর অর্থ হলো, আপনি সেবা করার দায়িত্বে নিয়োজিত।
সুতরাং, এর দ্বিতীয় অর্থ বা দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো—যিনি কোনো জনগোষ্ঠীর নেতা, তাঁর দায়িত্ব হলো সেই জনগোষ্ঠীর সেবা করা। আর প্রথম সম্ভাবনাটি হলো—আমরা যদি জানতে চাই, কে প্রকৃতপক্ষে নেতা, তাহলে দেখতে হবে কে সবার চেয়ে বেশি সেবা করছেন। তাহলেই আমরা বুঝতে পারব, তিনিই নেতা।
আপনার কমেন্ট